রোহিঙ্গাদের ১১ হাজার শিশুই এতিম

0
10

বিডি ডেস্কঃ মিয়ানমারের সেনা সদস্যদের হাতে খুন হওয়া রোহিঙ্গা শিশুদের সংখ্যা এখন প্রায় ১১ হাজার। পিতা-মাতাহীন এই শিশুদের কেউ নেই পরিচয় নিশ্চিত করার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এসব শিশুদের জন্য আলাদা শেল্টার হোমের কাজও এগিয়ে চলছে।

এই তথ্য উঠে আসে রোহিঙ্গা বিষয়ক সমন্বয় কমিটির সদস্য সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক কবির বিন আনোয়ার কাছ থেকে। বৃহস্পতিবার রাতে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সমন্বয় সভায় এ তথ্য জানান তিনি।

কবির বিন আনোয়ার বলেন, আশ্রিত রোহিঙ্গাদের মাঝে এতিম শিশুদের বিশেষ সুরক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে সমাজসেবা অধিদফতর। কিন্তু এরপরও রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া থেমে নেই। দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার আবুল কালাম, পুলিশ সুপার ড. একেএম ইকবাল হোসেন, সিভিল সার্জন ডা.আব্দুস সালামসহ পদস্থ সরকারি কর্মকর্তা ও দেশি-বিদেশি সাহায্য ও উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় জানানো হয়, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ইতোমধ্যে সাত হাজার স্বাস্থ্যসম্মত ল্যাট্রিন স্থাপন করা হয়েছে। সার্বিক অগ্রগতি কার্যক্রমও সন্তোষজনক। এতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অন্য মহাপরিচালক তোফাজ্জল হোসেন মিয়া।

এর আগে বিকেলে কবির বিন আনোয়ার কুতুপালং ক্যাম্প এলাকায় এতিম শিশুদের বিশেষ জোনের জন্য নির্ধারিত স্থান, কলেরা রোগের প্রতিষেধক খাওয়ানোর ক্যাম্প এবং সেনাবাহিনীর ত্রাণ কার্যক্রম ও সার্বিক ব্যবস্থা পরিদর্শন করেন।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছিল। তবে এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সর্তক করায় রোহিঙ্গাদের ছড়িয়ে পড়া থেমে গেছে।

এইসব শিশুদের যখন লেখাপড়ায় তুমুল ব্যস্ত থাকার কথা, তখন নিজের নাগরিকত্বের কার্ড সংগ্রহে ব্যস্ত তারা। এসব শিশুদের মধ্যে অনেকেই বাবা হারিয়েছে, কেউ হারিয়েছে মা আবার কেউ বা দু’জনকেই হারিয়ে এক অনিশ্চয়তার মধ্যে আছে।

এসব শিশুদের খুঁজে বের করে তাদের রেজিস্ট্রেশন কারার কাজ শুরু হয়েছিল আগস্ট থেকেই। শেই কাজ এখন শেষ পর্যায়ে।

চলতি মাসের মধ্যেই শিশুদের নাম ও পরিচয় প্রকাশ করা হবে ওয়েব সাইটে। পৃথিবীর যে কোনো প্রান্ত থেকে যে কোনো সংস্থা বা ব্যক্তি চাইলে ওই শিশুকে সহায়তা করতে পারবে।

-এমআরকে

NO COMMENTS